পোস্টগুলি

নকশিকাঁথাঃ সুই সুতোর কারুকাজ by Rafsan Ahmed Rimon

ছবি
  একটি ভৌগলিক মানচিত্র অথবা দেশ অনেক কিছুর সমন্বয়ে কালের যাত্রায় প্রবাহমান থাকে। এই যেমন, রাষ্ট্র ব্যাবস্হা,সমাজ,রাজনীতি, অর্থনীতি এবং শিল্প সংস্কৃতি ইত্যাদি। এগুলো প্রত্যেকটা ই একটি দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ।একটি দেশের এগিয়ে যাওয়াটা এই প্রত্যেকটা সেক্টর এর উপর ই নির্ভর করে। সমাজ ব্যাবস্হা রাজনীতি অর্থনীতির মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ একটির দেশের শিল্প সংস্কৃতি। তো আজকে আমরা বাংলাদেশ এর সংস্কৃতির একটা খুব সুন্দর শিল্প নিয়ে কথাবার্তা বলবো। শিল্প টি হলো নকশিকাঁথা। তো চলুন- নকশিকাঁথার ধারনা: নকশি কাঁথা বলতে আসলে সাধারণ কাঁথার উপর বিভিন্ন ধরনের মনোমুগ্ধকর নকশা একে যে কাঁথা তৈরী করা হয় তাকে বুঝানো হয়। এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের লোকশিল্পের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।সাধারণত পূরানো কাপড়ের পাড় থেকে সূতা খুলে অথবা তাঁতিদের থেকে লাল নীল সবুজ সাদা বিভিন্ন রঙের সুতা কিনে সেলাই করে এই নকশিকাঁথা তৈরী করা হয়। এগুলো সাধারণত গ্রামবাংলার মায়েরা বোনেরা অর্থাৎ মহিলারা মনের মাধুরী মিশিয়ে তাদের কল্পনাকে সেলাইয়ের মাধ্যমে  আঁকেন পুরনো এই কাপড়কে, রুপ দেন তাদের মস্তিষ্ক তৈরী হওয়া মনোমুগ্ধকর সব ছবিতে। কল্পনা করে...

উপমহাদেশের প্রথম মে দিবস ও প্রতিবাদের সংস্কৃতি

 এক গ্রীষ্মের সকাল, মাদ্রাজ শহর তখন উত্তাল। শহরের কেন্দ্রে মুষ্টিমেয় শ্রমিকরা হেঁটে আসছে, তাদের হাতে লাল পতাকা। সড়কগুলো তখন ব্যস্ত, তার মধ্যেই এক নতুন আন্দোলনের চিহ্ন, এটি ছিল শ্রমিকদের এক নতুন ইতিহাস তৈরির মুহূর্ত। মাদ্রাজের এই লাল সূর্য শুধু শহরের নকশা বদলে দিচ্ছিল না, এটির আলো ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো ভারতবর্ষে। ১৯২৩ সালের ১ মে তৎকালীন মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই) শহরে এক তামিল সমাজতান্ত্রিক নেতা এম. সিঙ্গারাভেলু চেট্টিয়ার প্রথমবারের মতো মে দিবস পালন করেন। তিনি 'লেবার কোর্টস' নামক একটি শ্রমিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি শ্রমিকদের জন্য অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে লাল পতাকা উত্তোলন করেন। এটি ছিল ভারতের প্রথম মে দিবস উদযাপন এবং এর মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলনের নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। এই দিনের ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটি ছিল শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা, যা পরবর্তীকালে ভারতের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাংলায়, যেখানে শ্রমিক আন্দোলন একটি শক্তিশালী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের অঙ্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।  মাদ্রাজে মে দিবসের প...

নববর্ষ ১৪৩২

 ১৪৩২ বঙ্গাব্দের এই প্রভাতে আমরা শুধু বছর গোনার পালা বদলাইনি, বরং লিখে ফেলেছি রাষ্ট্রচিন্তার এক নতুন অধ্যায়। যখন থেমে থাকা ঘড়ির কাঁটায় জমে থাকা সময় হঠাৎ সচল হয়, তখন তা শুধু মুহূর্তের পরিবর্তন নয়, জন্ম নেয় নতুন এক যুগের। স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর এই প্রথম বাংলার মাটি স্পর্শ করেছে এমন এক নববর্ষ, যেন তা রাষ্ট্রের গর্ভে লালিত গণতন্ত্রের অভাবিত এক শ্বাসপ্রশ্বাস। কেননা,  গত বছরের এমন দিনে আমরা দেখেছি কীভাবে রাষ্ট্র নামক যন্ত্রটি নিজের জনগণের গলায় ফাঁসির দড়ি পরিয়ে রাখে। কিন্তু বাংলার মাটি তো বিদ্রোহের সিলেবাস রচনা করে চলে যুগে যুগে; চর্যাপদের পদাবলি থেকে একাত্তরের রক্তিম সকাল পর্যন্ত এই ভূখণ্ডের প্রতিটি ধুলিকণায় মিশে আছে প্রতিরোধের জিন। ছাত্র-জনতা তাই শুধু পথের দাবিতে রাস্তায় নামেনি, বরং বর্জ্যকণ্ঠে আওয়াজ তুলেছে রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষিত বন্দোবস্ত বিনির্মাণের।  তাই,  এই নববর্ষ আমাদের শেখায়: রাষ্ট্র মানে শাসকের রাজপ্রাসাদ নয়, বরং জনগণের হাতের গাঁথা মালা। যখন স্বৈরাচার রাষ্ট্রের আইনকানুনকে জিম্মি করেছিল, তখন পথের মানুষই হয়ে উঠেছিল আইনের জীবন্ত সংস্করণ। মাঠে-ময়দানে লেখা হয়েছি...